“এইটুকু এই জীবন হাসতে কাদতেই শেষ
জরা ব্যাধিতে ভরা সময় নেই লেশ
কী আশা কী নিরাশা সবি হবে একাকার
কিছু কথা রয়ে যাবে কিছু শেষ হবে আবার।”
প্রকৃতপক্ষে এ বিশ্বচরাচরে একজন মানুষের কিংবা সব প্রাণীর জীবনের পরিধি খুবই সামান্য। এই সামান্য পরিধির বৃত্তেই তার ঘোরাঘুরি, চাওয়া-পাওয়া, বাধা-বিপত্তি। এমনি এক বৃত্তের মধ্যে থেকে আমরা চারজন বন্ধু আজাহার, সমীর, পলাশ ও আমি নিখিল বিশ্বের এক ক্ষুদ্র বিন্দুতে আনন্দ লাভের উদ্দেশে যাত্রা আরম্ভ করি। যদিও আমরা হিউয়েন সাঙ্গ এর মত অত বড় পর্যটক নই। ২৭/৯/২০১১ ইং তারিখে ঝকঝকে রৌদ্রজ্জ্বল বিকাল ৩:৩০ মিনিটে আমাদের গন্তব্যস্থল টাঙ্গন নদীর উপর নির্মিত ব্রিজের উদ্দেশে যাত্রা আরম্ভ করি।
আমাদের যাত্রা শুরুর স্থান সেতাবগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ১২১/২ কি.মি. দূরে ব্রিজটি অবস্থিত।
সবুজে ঘেরা গ্রামের ভেতর দিয়ে পিচঢালা সরুপথ একেবেকে চলেছে ব্রিজের দিকে।
যেহেতু আমরা সাইকেলে চড়ে যাত্রা শুরু করি, তাই প্রকৃতিটাকে অবলোকন করতে পেরেছি একেবারে আপন করে।
কী অপরূপ শোভা সেই প্রকৃতির! যেদিকে চোখ যায় শুধু সবুজ আর.....। বিশাল প্রান্তরের মাঝে দু-একটি বৃক্ষ ক্লান্ত পথিকের আশ্রয় হয়ে দারিয়ে আছে। আকাশে মেঘকন্যা নির্ভার হয়ে শুভ্র আঁচল মেলে ধরেছে। দেখলেই চোখ জুরিয়ে যায়। আমার কয়েকটি লাইন মনে পড়ছে। শোনাই? আচ্ছা শোনাচ্ছি-
“নয়ন জোড়া সঁপে দিলাম দিগন্তেরি পানে
খুঁজতে আমার গা
জন্মভূমি মা
যখন পাবে সিক্ত হবে নয়ন তাহা জানে।”
এখন সব সার্থক। নয়ন জুরে গেছে। এমন যার শোভা সে কি তাসের ঘর হয় কখনো? এই গ্রামের রূপ তো চিরস্থায়ী, স্বতন্ত্র, সনাতন।
এভাবে দেখতে দেখতে আমরা চারজন চলেছি ব্রিজের পানে। আজাহার ও পলাশ পালাক্রমে মুঠোফোনে গান বাজাচ্ছে। গানের সুর যেন প্রকৃতির মুক্ত বাতাসে মিশে অপূর্ব সংমিশ্রণ তৈরি করছে। রাস্তার পাশে রামপুর ডিগ্রি কলেজ, কয়েকটি বাজার ও এক শালবন চোখে পড়ে।
অবশেষে পৌঁছে যাই সেই ব্রিজের কাছে। যার জন্য আমাদের এতদূর পথ চলা।
ব্রিজটি নবনির্মিত ও অপরূপ শোভা-নন্দিত। প্রায় আধা কি.মি. দীর্ঘ ব্রিজটি সম্পূর্ণ কংক্রিটের তৈরি।
আমরা চারজন হেঁটে পুরো ব্রিজটি প্রদর্শন করি এবং দারুণ আনন্দে উদ্দেলিত হই। এরপর ব্রিজের নীচে নেমে নদীর শীতল জলে ফ্রেশ হয়ে শুরু করি ছবি তোলার মহিমা। তবে কোনো ক্যামেরায় নয় ছবি তুলি মুঠোফোনে একেক জন একেক ভঙ্গিমায়। আমরা প্রায় দেড় ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করি। এই দেড় ঘণ্টা ছবি তোলা, হই-হুল্লর করা নিয়েই কেটে যায়।
অবশেষে বেজে যায় বিদায় ঘণ্টা। আসার সময় সাইনবোর্ডে দেখি এ ব্রিজের জন্য পাঁচ কোটি টাকার অধিক ব্যয় করা হয়েছে। সাইকেলগুলো নিয়ে ধীরে ধীরে উপড়ে উঠে আসি। পুনরায় পা রাখি ব্রিজের বুকে। ধীর পদক্ষেপে পিছনে ফেলে আসি দেড় ঘণ্টার পরিচিত টাঙ্গন নদীর ব্রিজটিকে। যা ছিল এই ভ্রমণের আনন্দের প্রধান উৎস।
হয়তো ব্রিজটি আমাদের উপদ্রপে বিরক্ত বোধ করেছিল অথবা পেয়েছিল নির্মল আনন্দ। হয়তো আগামী পরশুতে সে আমাদের জন্য পথ চেয়ে থাকবে হয়তো বা থাকবে না। কিন্তু নির্মল আনন্দের খোঁজে আমরাই ফিরবো তার কাছে আরো একবার।
জরা ব্যাধিতে ভরা সময় নেই লেশ
কী আশা কী নিরাশা সবি হবে একাকার
কিছু কথা রয়ে যাবে কিছু শেষ হবে আবার।”
প্রকৃতপক্ষে এ বিশ্বচরাচরে একজন মানুষের কিংবা সব প্রাণীর জীবনের পরিধি খুবই সামান্য। এই সামান্য পরিধির বৃত্তেই তার ঘোরাঘুরি, চাওয়া-পাওয়া, বাধা-বিপত্তি। এমনি এক বৃত্তের মধ্যে থেকে আমরা চারজন বন্ধু আজাহার, সমীর, পলাশ ও আমি নিখিল বিশ্বের এক ক্ষুদ্র বিন্দুতে আনন্দ লাভের উদ্দেশে যাত্রা আরম্ভ করি। যদিও আমরা হিউয়েন সাঙ্গ এর মত অত বড় পর্যটক নই। ২৭/৯/২০১১ ইং তারিখে ঝকঝকে রৌদ্রজ্জ্বল বিকাল ৩:৩০ মিনিটে আমাদের গন্তব্যস্থল টাঙ্গন নদীর উপর নির্মিত ব্রিজের উদ্দেশে যাত্রা আরম্ভ করি।
আমাদের যাত্রা শুরুর স্থান সেতাবগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ১২১/২ কি.মি. দূরে ব্রিজটি অবস্থিত।
সবুজে ঘেরা গ্রামের ভেতর দিয়ে পিচঢালা সরুপথ একেবেকে চলেছে ব্রিজের দিকে।
যেহেতু আমরা সাইকেলে চড়ে যাত্রা শুরু করি, তাই প্রকৃতিটাকে অবলোকন করতে পেরেছি একেবারে আপন করে।
কী অপরূপ শোভা সেই প্রকৃতির! যেদিকে চোখ যায় শুধু সবুজ আর.....। বিশাল প্রান্তরের মাঝে দু-একটি বৃক্ষ ক্লান্ত পথিকের আশ্রয় হয়ে দারিয়ে আছে। আকাশে মেঘকন্যা নির্ভার হয়ে শুভ্র আঁচল মেলে ধরেছে। দেখলেই চোখ জুরিয়ে যায়। আমার কয়েকটি লাইন মনে পড়ছে। শোনাই? আচ্ছা শোনাচ্ছি-
“নয়ন জোড়া সঁপে দিলাম দিগন্তেরি পানে
খুঁজতে আমার গা
জন্মভূমি মা
যখন পাবে সিক্ত হবে নয়ন তাহা জানে।”
এখন সব সার্থক। নয়ন জুরে গেছে। এমন যার শোভা সে কি তাসের ঘর হয় কখনো? এই গ্রামের রূপ তো চিরস্থায়ী, স্বতন্ত্র, সনাতন।
এভাবে দেখতে দেখতে আমরা চারজন চলেছি ব্রিজের পানে। আজাহার ও পলাশ পালাক্রমে মুঠোফোনে গান বাজাচ্ছে। গানের সুর যেন প্রকৃতির মুক্ত বাতাসে মিশে অপূর্ব সংমিশ্রণ তৈরি করছে। রাস্তার পাশে রামপুর ডিগ্রি কলেজ, কয়েকটি বাজার ও এক শালবন চোখে পড়ে।
অবশেষে পৌঁছে যাই সেই ব্রিজের কাছে। যার জন্য আমাদের এতদূর পথ চলা।
ব্রিজটি নবনির্মিত ও অপরূপ শোভা-নন্দিত। প্রায় আধা কি.মি. দীর্ঘ ব্রিজটি সম্পূর্ণ কংক্রিটের তৈরি।
আমরা চারজন হেঁটে পুরো ব্রিজটি প্রদর্শন করি এবং দারুণ আনন্দে উদ্দেলিত হই। এরপর ব্রিজের নীচে নেমে নদীর শীতল জলে ফ্রেশ হয়ে শুরু করি ছবি তোলার মহিমা। তবে কোনো ক্যামেরায় নয় ছবি তুলি মুঠোফোনে একেক জন একেক ভঙ্গিমায়। আমরা প্রায় দেড় ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করি। এই দেড় ঘণ্টা ছবি তোলা, হই-হুল্লর করা নিয়েই কেটে যায়।
অবশেষে বেজে যায় বিদায় ঘণ্টা। আসার সময় সাইনবোর্ডে দেখি এ ব্রিজের জন্য পাঁচ কোটি টাকার অধিক ব্যয় করা হয়েছে। সাইকেলগুলো নিয়ে ধীরে ধীরে উপড়ে উঠে আসি। পুনরায় পা রাখি ব্রিজের বুকে। ধীর পদক্ষেপে পিছনে ফেলে আসি দেড় ঘণ্টার পরিচিত টাঙ্গন নদীর ব্রিজটিকে। যা ছিল এই ভ্রমণের আনন্দের প্রধান উৎস।
হয়তো ব্রিজটি আমাদের উপদ্রপে বিরক্ত বোধ করেছিল অথবা পেয়েছিল নির্মল আনন্দ। হয়তো আগামী পরশুতে সে আমাদের জন্য পথ চেয়ে থাকবে হয়তো বা থাকবে না। কিন্তু নির্মল আনন্দের খোঁজে আমরাই ফিরবো তার কাছে আরো একবার।
0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন